ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোট এখনো প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা করেনি। জোট নেতাদের দাবি, তারা যৌথ নেতৃত্বের ভিত্তিতে নির্বাচন পরিচালনা করবে এবং নির্বাচনের ফলাফলের পরই নেতৃত্ব সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জোটে মোট ১০টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ইসলামপন্থি দল এবং বাকি পাঁচটি অন্যান্য রাজনৈতিক দল। জোটের অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, জোটের ভেতরে প্রধানমন্ত্রী কিংবা বিরোধী দলীয় নেতা নির্ধারণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সাধারণভাবে নির্বাচনে যে দল বেশি আসন পায়, সেই দলের শীর্ষ নেতাই সরকারপ্রধান হন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন শেষে আসন সংখ্যার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি জানান, জামায়াত তাদের শীর্ষ নেতৃত্বকেই সামনে রাখতে চায়।
জোটে সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে জামায়াত—২১৫টি। অন্যদিকে এনসিপি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৩০টি আসনে। নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও জোটের প্রধান শক্তি হিসেবে জামায়াতকেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
শরিয়াভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ক্ষমতায় গেলেই হঠাৎ করে শরিয়া আইন কার্যকর করা হবে না। প্রচলিত আইন ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই ধাপে ধাপে আইন সংস্কারের কথা বলেন তিনি।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বের অস্পষ্টতা ও আদর্শিক ভিন্নতার কারণে এই জোট বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।











